নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা-
বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম সারাদেশের কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতি কঠোর নির্দেশ, বিনীত অনুরোধ এবং স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবাদিকতা কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা অর্থলোভী মহলের হাতিয়ার হতে পারে না। এটি দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একটি মহান পেশা।
মূল নির্দেশনা-
ফোরামের বিবৃতিতে ৫ দফা নির্দেশনা তুলে ধরা হয়-
১/ দলনিরপেক্ষতা বজায় রাখা*দ- কোনো সাংবাদিক কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করতে পারবেন না। কলম ও ক্যামেরা হবে শুধুমাত্র সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে।
২/ পেশাগত মর্যাদা রক্ষা- সাংবাদিকদের সম্মান সাংবাদিকরাই নষ্ট করছে, উল্লেখ করে ফোরাম বলে- অর্থের লোভে এক সাংবাদিক আরেক সাংবাদিকের প্রতিপক্ষ হওয়ার ‘যুদ্ধ খেলা’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৩/ দালালি ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান- বিবৃতিতে বলা হয়, যারা টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক নেতা, কোম্পানি বা কালোবাজারি হাউজিং রাঘব বোয়ালদের হয়ে কাজ করে, তারা নিজেরাই একসময় ওই চক্রের হাতে নির্যাতিত হবেন। এটি সাংবাদিকতার জন্য কলঙ্ক।
৪/ দেশবিরোধী অপশক্তির মুখোশ উন্মোচন- সাংবাদিকদের দায়িত্ব দেশবিরোধী, সন্ত্রাসী ও কালোবাজারিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে জাতির সামনে তুলে ধরা। এ ক্ষেত্রে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
৫/ তওবা করে ফেরার সুযোগ: যারা ইতোমধ্যে অন্যায় পথে জড়িয়েছেন তাদেরকে ফিরে এসে পেশার মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: দুই ধরনের সংকট
ফোরাম উদ্বেগের সাথে জানায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা দুই দিক থেকে চাপের মুখে।
১/ একশ্রেণির অর্থলোভী ‘নামধারী সাংবাদিক’ ব্যবসায়ী চক্রের কারণে পুরো পেশাটি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। পা-চাটামি, ধান্ধাবাজি ও অর্থের বিনিময়ে সংবাদ বিক্রির কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরাও অপমান ও অবিশ্বাসের শিকার হচ্ছেন।
২/ অপরদিকে যারা সত্য উদঘাটন ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে নামছেন, তারাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন লাঞ্ছনা, সামাজিক মাধ্যমে অপবাদ ও হুমকি এখন নিত্য ঘটনা।
ফোরামের ভাষ্য, এই দুই স্রোতের কারণেই আজ সাংবাদিকরা যেখানে-সেখানে লাঞ্ছিত হচ্ছেন। একদল অপব্যবহার করে, আরেক দল সত্য বলার কারণে মার খায়।
সংগঠনের আহ্বান ও হুঁশিয়ারি-
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকতা কারো একার সম্পদ নয়। এটি জাতির বিবেক। নিজের পদ ও আত্মসম্মান যদি আমরা নিজেরাই রক্ষা না করি, তবে রাজনৈতিক নেতা ও কালোবাজারিরা টাকার বিনিময়ে আমাদের ব্যবহার করবেই।
সংগঠন স্পষ্ট করে বলে অর্থের বিনিময়ে যারা সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা করছে, ফোরাম তাদেরকে প্রতারক, কালোবাজারি ও রাজনৈতিক দলের অপব্যবহারকারীদের কাতারেই ফেলবে।
একইসাথে ফোরাম সকল গণমাধ্যম কর্মীকে আহ্বান জানায়-
- পেশাগত আচরণবিধি মেনে চলুন
- তথ্য প্রকাশের আগে যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করুন
- সহকর্মীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ নয়, ঐক্য গড়ে তুলুন
- কোনো প্রকার প্রলোভন বা হুমকির কাছে মাথা নত করবেন না
করণীয় কী?
বর্তমান পরিস্থিতিতে ফোরাম ৩টি পরামর্শ দিয়েছে-
১/ ঐক্য- দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় সম্মিলিত প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।
২/ প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা- সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ বাস্তবায়ন এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাতে হবে।
৩/ "নৈতিক অবস্থান"- বিজ্ঞাপন ও অর্থের চাপ উপেক্ষা করে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আজ যারা টাকা দিয়ে ব্যবহার করছে, কাল তারাই শত্রু হয়ে দাঁড়াবে।
পরিশেষে ফোরামের সভাপতি বলেন- সাংবাদিকতা মহান পেশা। একে কলঙ্কের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদেরই। আসুন, আমরা কলমকে বিক্রি না করে, জাতির বিবেক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াই।