Sylhet News Times | সিলেট নিউজ টাইমস
📅 শুক্রবার, 18 সেপ্টেম্বর, 2026 📍 সিলেট, বাংলাদেশ
📢 [ডেমো অ্যাড: হেডার টপ ব্যানার]
সারাদেশ

সাইবার আইন সংশোধনে ভারসাম্যের দাবি বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের

📅 18 September 2026, 12:58 AM | 👁️ পঠিত: 44 বার
📢 [ডেমো অ্যাড: নিউজ টপ ব্যানার]
সাইবার আইন সংশোধনে ভারসাম্যের দাবি বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের

নিজস্ব প্রতিবেদক -
 

প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনে সাইবার নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম।

সংগঠনের সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, সাইবার অপরাধ দমনে কার্যকর আইন প্রয়োজন এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেইলিং ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর হতেই হবে। কিন্তু সেই আইন যেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও মুক্তমতের পথে বাধা না হয়, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত খসড়ায় গুজব বা অপতথ্য প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান এবং গুজবের অস্পষ্ট সংজ্ঞা নিয়ে সাংবাদিক সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুল তথ্য, অযাচাইকৃত তথ্য এবং ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্যকে একই দাঁড়িপাল্লায় মাপা যাবে না।

সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন বলেন, জনস্বার্থে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির সময় সব তথ্য শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। পরে নতুন তথ্য যুক্ত হয়, ভুল সংশোধন করা হয়। ইচ্ছাকৃত প্রতারণা আর অনিচ্ছাকৃত ভুলের মধ্যে আইনে স্পষ্ট পার্থক্য না থাকলে সাংবাদিকরা আত্মনিয়ন্ত্রণে বাধ্য হবেন, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের তথ্য জানার অধিকারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম দায়িত্বহীন সাংবাদিকতাকে সমর্থন করে না। সাংবাদিকতার নামে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা, চরিত্রহনন বা সাইবার অপরাধের কোনো সুরক্ষা আমরা চাই না। আমাদের দাবি, প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি হোক, কিন্তু পেশাদার সাংবাদিক যেন হয়রানির শিকার না হন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ওই আইনে অন্তত ২৫৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা আমাদের সতর্ক করে। নতুন আইনে সেই পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে চাই না।

কনটেন্ট ব্লক এবং সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের প্রস্তাবিত ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গণমাধ্যম বন্ধের ক্ষমতা থাকলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হবে। এ ক্ষেত্রে স্বাধীন পর্যালোচনা ও বিচারিক সুরক্ষা থাকতেই হবে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের পরামর্শ সভাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে মোঃ কুতুব উদ্দিন বলেন, এই সংলাপ যেন আনুষ্ঠানিকতা না হয়। খসড়া চূড়ান্ত করার আগে সাংবাদিক, সম্পাদক, আইনজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো: গুজব, অপতথ্য ও ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্যের পৃথক ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা; জনস্বার্থে সাংবাদিকতার আইনি সুরক্ষা; অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য সংশোধনের সুযোগ; কনটেন্ট ব্লকের ক্ষেত্রে স্বাধীন পর্যালোচনা ব্যবস্থা; এবং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলে আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন বলেন, আমরা চাই সাইবার আইন অপরাধের বিরুদ্ধে ঢাল হোক, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর শিকল নয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে একটি স্পষ্ট, কার্যকর ও অধিকারসম্মত আইন প্রণয়নে সরকার অংশীজনের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে বলে আমরা আশা করি।

📢 [ডেমো অ্যাড: নিউজ বটম ব্যানার]
📌 [ডেমো অ্যাড: সাইডবার উইজেট ১]
📌 [ডেমো অ্যাড: সাইডবার উইজেট ২]