আন্তর্জাতিক ডেস্ক::শেষমেশ ভিসা বেচে ঘর গোছানোর আয়োজন করল শ্রীলংকা! ঋণের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া দ্বীপকে ডাঙায় ওঠাতে এই নতুন পথ ধরল দেশটির দিশেহারা সরকার। ভিসা বিক্রি, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া। রসিকতা করে একে ‘এক ঢিলে দুই পাখি’ প্রকল্প বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বৈদশিক মুদ্রাও হলো পর্যটনও বাড়ল! রিজার্ভ বাড়াতে গৃহীত অভিনব এ নীতির নাম দিয়েছে ‘গোল্ডেন প্যারাডাইস ভিসা’। সমালোচকদের কেউ কেউ আবার একে দেশকে পুরোনোরূপে ফিরিয়ে নেওয়ার আরেকটি অনিশ্চিত প্রচেষ্টা হিসাবে ব্যঙ্গ করছেন। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত দেশটির পর্যটন খাত ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকট।
অর্থনৈতিক মুক্তির নয়া এ পদক্ষেপে বিনিয়োগ বাড়াতে গোল্ডেন ভিসা দেবে শ্রীলংকা। যার বলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত লংকায় থাকতে পারবেন পর্যটনবিলাসী বিদেশি ও ধনকুবের ব্যবসায়ীরা। আকর্ষণীয় এ ভিসার মালিকানা পাওয়ার প্রথম শর্ত হলো আগাম বিনিয়োগ। ভিসা হাতে পাওয়ার আগেই ব্যাংকে জমা রাখতে হবে মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা । দ্বিতীয় শর্ত হলো ভিসার মেয়াদ থাকা পর্যন্ত ওই অর্থ ব্যাংকেই থাকবে। দেশটির গণমাধ্যম মন্ত্রী নলক গোদাহেওয়া মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভিসার মেয়াদ থাকাকালীন পুরো সময় এই অর্থ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে বলে জানান তিনি। এই ভিসা কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই আশানরূপ ফল পাওয়া যাবে নাকি তা এখন সময়ই বলে দেবে।’ তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে শ্রীলংকায় সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকট এটি, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারব।’
কোনো পর্যটক যদি সর্বনিম্ন এক লাখ ডলার (প্রায় সাতআশি লাখ টাকা), কোনো লংকান ব্যাংকে জমা রাখেন তাহলে তাকে দেওয়া হবে ১০ বছরের ভিসা এবং কাজের অনুমতি। শুধু তাই নয়, কোনো বিদেশি সর্বনিম্ন পচাত্তর হাজার ডলার (প্রায় পঁয়শট্টি লাখ টাকা) ব্যয় করে একটি বাড়ি কিনলে সঙ্গে পাবেন দীর্ঘমেয়াদি ভিসা কেনার সুযোগ। কিন্তু সেটি শুধু পাঁচ বছরের জন্য।